HomeBlogs

wp untitled 32488   আপনারাও পড়ে ভয় পাবেন। আমার সাথে ঘটে যাওঢ়া ঘটনা।
2022-09-07
Apk

Download আপনারাও পড়ে ভয় পাবেন। আমার সাথে ঘটে যাওঢ়া ঘটনা।


Additional Information
হসপিটালের ২১২ নম্বর…… রুমটা ….. আজ যে গল্পটা আমি লিখতে চলেছি…. যা পড়ার পর আপনারা হয়তো ভাববেন …. সবটাই কাল্পনিক …. অনেকে হয়তো গল্পটি ঠাট্টা বলে মনে করবেন….. কিন্তু বিশ্বাস করুন আমার জীবনে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনার মধ্যে এটি একটি…..কিন্তু অবশ্যই ঘটনাটিকে সত্য বা মিথ্যা বলে যাচাই করার সম্পূর্ণ অধিকার আপনার….. বেশ কিছুদিন আগেকার ঘটনা…. কাজের সূত্রে আমার পোস্টিং পরেছিল একটি গভর্নমেন্ট হসপিটালে…. হসপিটালটি ছিল অনেক পুরনো…(১৯০০) এ তৈরি… চারিদিকে বটগাছে ভর্তি … আর চারিদিকে অসংখ্য বাদুড় ঝুলন্ত অবস্থায় আছে…. যেন মনে হবে কোন এক অজানা কারণে তারা সমস্ত রাত তথা দিন কর্কশ কন্ঠে চিৎকার করে চলেছে…. হসপিটালটা পুরোটাই ভুতুড়ে হাবেলি টাইপের…. রাত তো দূরের কথা দিনের আলোয় হসপিটালটা পুরো পর্যবেক্ষণ করলেও গা ছমছম করতে থাকবে…. যেন মনে হবে কোন এক অজানা ভয় যেন তোমাকে সব সময় অনুসরণ করছে……. অনেক কর্মরত স্টাফদের মুখে শোনা যায় ..ওই হসপিটালে অনেক ভুতুড়ে কান্ড কারখানা ঘটে থাকে…. তাই হসপিটালের সমস্ত স্টাফ নাইট শিফটে এক জায়গায় থাকতে পছন্দ করে…. এবং ওই হসপিটালে নাকি একটি’ দুশো বারো নম্বর রুম’ আছে … রুমটা নাকি বহু যুগ ধরে বন্ধ….. একদিন মর্নিং শিফটে আমার অনেক বন্ধু বান্ধবীরা এরকম আজগুবি গাল গল্প শুনে সেটিকে নিয়ে আলোচনা করতে থাকে….. আর আমি একের পর এক কমেন্ট করে ঠাট্টা করতে থাকি….. কিন্তু কখনো ভাবিনি আমাকেও কোন একদিন ওই রুমের সম্মুখীন হতে হবে ………. সেদিন আমি আইসিউতে কর্মরত ছিলাম….. তবে সেদিন আমার সিফট পড়েছিল নাইটে…. প্রতিদিনের তুলনায় সেদিনের কাজ ছিল অন্যরকম তখন রাত্রি প্রায় ১১:৪৫ আইসিউতে দুটি ব্যক্তি পরোলোক গমন করেন…. ডাক্তার এসে নির্দেশ দেয়, ডেড বডি গুলির ইসিজি টেস্ট এবং সুগার টেস্টর রিপোর্ট করতে…. দুটি ডেড বডির ইসিজি করে রিপোর্টগুলি তুলে দিয়েছিলাম আইসিইউতে কর্মরত ডক্টরের হাতে…. জানিনা কোন কারনে শরীরটা বেশ চঞ্চল হয়ে উঠেছিল… আসলে পোস্টিং চলাকালীন অনেক ডেডবাডির সম্মুখীন হতে হলেও এহেন চক্ষু সম্মুখে কোনো ব্যক্তি মারা যেতে দেখিনি …. রাত তখন প্রায় একটা …. আমি আইসিইউ এর এক কনে দাঁড়িয়ে…. কিছুক্ষণ পর সিস্টার এসে বলল ….. তুমি ডিনার করে আসো…. সিস্টারের বলা কথা মত ডিনার করতে গিয়েছিলাম হসপিটালের’ সি ব্লকে’…. হসপিটালের’ সি ব্লকটি’ ছিল একেবারে হসপিটালের পিছন দিকে… এবং পাশেই ছিল হসপিটালের মর্গ এবং ফরেনসিক ল্যাব….. আইসিউটি ছিল হসপিটালের একেবারে তিন নম্বর ফ্লোরে…. সেদিন আমার এক বন্ধুর সিফট পড়েছিল ৭ নম্বর ফ্লোরে পালমোনারি ওয়ার্ডে… ভাবলাম বন্ধুকে ডেকে নিয়ে একসাথে ডিনারে যাব’ সি ব্লকে’…… রাত তখন প্রায় ১:৩০… হসপিটালে প্রায় অনেক লাইট অফ হয়ে গেছে, এবং আরো বেশ কিছু লাইট অফ হতে চলেছে…. চারিদিকটা বেশ থম্থমে…. নিজের পায়ের বুটের আওয়াজ নিজেকেই ভয় পাইয়ে তুলছিল….. লিফট অন করে ৭ নম্বর ফ্লোরের দিকে রওনা দিলাম…. সাত নম্বর ফ্লোরে গিয়ে দেখলাম চারিদিকে অন্ধকার দু একটা আলো নাম মাত্র জ্বলছে…. ওয়ার্ডগুলিতে সমস্ত পেসেন্ট প্রায় ঘুমন্ত অবস্থায়…. অন ডিউটি নার্সিং স্টেশনের দিকে গিয়ে দেখলাম কর্মরত সিস্টার শুতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করছিল…. সিস্টার কে জিজ্ঞাসা করলাম,”আমার বন্ধুর ব্যাপারে…. সিস্টার তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল ,”সে অনেকক্ষণ আগেই ডিনারের জন্য বেরিয়ে গেছে.”… সিস্টারকে থ্যাঙ্কস বলে আবার লিফটের দিকে এগিয়ে যাব হঠাৎ পিছন থেকে কর্মরত সিস্টারটি ‘এসকিউসমি ব্রাদার বলে ডেকে উঠল’…. এবং বলল” এদিক ওদিক একা একা ঘোরাঘুরি না করতে”…. সিস্টারকে ‘ওকে’ বলে লিফটের দিকে অগ্রসর হলাম ….. লিফটের ভিতরে উঠে গ্রাউন্ড ফ্লোরের সুইচ প্রেস করলাম…. লিফট নামতে শুরু করলো হঠাৎ হসপিটালে চার নম্বর ফ্লোরে একটু ঝাকুনি দিয়ে লিফটি আপনাআপনি দাঁড়িয়ে গেল… ভাবলাম কেউ হয়তো উঠবে… লিফটের দরজা আপনি হতেই খুলে গেল এবং দেখলাম চারিদিক অন্ধকার…. লিফটের ভেতরে থাকা আলোয় চারিদিকটা দেখলাম পুরনো যুগের কিছু হুইল চেয়ার এবং ভাঙ্গা বেড পরে….. আরো ভালোভাবে দেখতে যাব হঠাৎই লিফটের দরজা আবারো আপনাআপনি বন্ধ হয়ে গেল… আমি এবার বেশ ভয় পেয়ে উঠেছিলাম…. এতটাই ভয় পেয়ে উঠেছিলাম যে সারা শরীর তথা মুখেও ঘামের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল…… কিছুক্ষণ পর লিফট গিয়ে দাঁড়ালো গ্রাউন্ড ফ্লোরে…. লিফট থেকে বেরিয়ে অতিরিক্ত ভয় অবস্থাতে গ্রাউন্ড ফ্লোরের মেইন গেটের দিকে খুব দ্রুত হেঁটে রওনা দিচ্ছিলাম … বারবার মনে হচ্ছিল কে যেন আমাকে অনুসরণ করছে…. তাই বারবার পেছন দিকে ঘুরে তাকাচ্ছিলাম ….. কিন্তু পিছনে কারোর দেখা মিলছিল না…. কেবলই অন্ধকার আর টিমটিম করে দু একটি আলো জ্বলছে….. গ্রাউন্ড ফ্লোর এর মেন গেট থেকে সি ব্লক প্রায় দুই মিনিট লাগে….. আমি বেরিয়েই দ্রুত হাঁটতে থাকি… চারিদিকে অন্ধকার … পুরনো যুগের হসপিটাল চারিদিকে বাদুড়ে ভর্তি…. বাদুর গুলিও আমার পায়ের শব্দ পেয়ে কর্কশ কন্ঠে চেচাতে লাগলো… ভয় যেন আরো বাড়তে লাগলো আমার…… হঠাৎই দু চারটে কুকুর চেঁচাতে চেঁচাতে আমার দিকে ছুটে আসছিল… বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে পড়লাম… ভাবলাম কুকুর গুলো অন্যদিকে চলে যাবে কিন্তু না, কুকুরগুলি আরো দ্রুত আমার দিকে ছুটে আসতে লাগলো… ব্যাপার বেগতিক দেখে আমিও দিলাম ছুট…. অন্ধকারে ছুটতে ছুটতে জানিনা কোথায় এসে পরেছিলাম….. চারিদিকে সেই প্রচন্ড অন্ধকার ,শুধু একটু দূরে টিম টিম করে একটি আলো জ্বলছে….. দূর থেকে দেখে বুঝতে পারলাম নীল রঙ্গে লেখা ‘পোস্টমর্টেম রুম ‘…… এবং পাশেই ফরেনসিক ল্যাব …… মনে মনে বুঝতে পেরেছিলাম আশেপাশে মর্গ রুমটি উপস্থিত আছে….. এবং ওই দুশো বাড়ো নং রুমটিও উপস্থিত আছে… চারিদিকটা পুরো নিস্তব্ধ শুধু দূর থেকে ভেসে আসছে একটি কুকুরের কর্কশ চিৎকার …. সে যেন তার সঙ্গী সাথীদের আহ্বান করছে…. চারিদিকটা এতটাই অন্ধকার যে ঠিক ঠাঙর করতে পারছিলাম না ওখান থেকে ‘সি ব্লক ‘যাওয়ার রাস্তা…. পকেট থেকে ফোনটি বার করে সময়টা দেখলাম রাত্রি তখন প্রায় দুটো…. সিদ্ধান্ত নিলাম একটি বন্ধুকে ফোন করে ওখানে আসতে বলবো….. একটি বন্ধুর নাম্বার সার্চ করে ফোন করতে যাব…. হঠাৎ শুনতে পেলাম দরজার ঠকঠক শব্দ…. প্রথম ভাবলাম দূর থেকে এই শব্দ শোনা যাচ্ছে….. তারপর আরো দুই একবার ওই শব্দ শোনার পর বুঝতে পারলাম ওই শব্দ দূর থেকে নয় বরং আমার পিছন থেকে আসছে… পকেট থেকে ফোনটি বার করে একটু ব্রাইটনেস বাড়িয়ে পিছন দিকে ঘুরে যা দেখলাম …. বর্ণনা করতে আমার সারা শরীর লোম খারা হয়ে যাচ্ছে……এ.. .একী….. রক্তের ন্যায় লাল রং দিয়ে লেখা ২১২নং ….. সবার বলা কথা মতই দেখলাম সত্যিই ইট, পাথরের কংক্রিটের তৈরি একটি দেওয়াল ২১২নং গেটের হাফ পর্যন্ত তোলা…. আর হ্যাঁ ওই তো কালো আলকাতরা দিয়ে প্রবেশ নিষেদের সতর্কবার্তা লেখা…… হঠাৎই দরজার ঠক ঠক শব্দ আপনি হতেই বন্ধ হয়ে গেল … শুরু হলো জোরে জোরে নাড়ানো…… আমি ঢোক গিলতে গিলতে সামনের দিকে ঘুরতে যাব…. হঠাৎ শুনতে পেলাম কে যেন মায়াবী সুরে কাঁদতে কাঁদতে আর এক ভয়ঙ্কর চিৎকার করতে করতে বলছে আমাকে বায়রে বার কর…. আমাকে মুক্তি দে…. ভয়ে আমার সারা শরীর পুনরায় ঘামে ভিজে উঠেছিল…. আমি থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে মৃদু গলায় জিজ্ঞাসা করতে যাব কে?…. হঠাৎ এক মায়াবী ঝড়ো হাওয়া …আর অসংখ্য বাদুর কোথা থেকে এসে ২১২নং রুমের কাছে কিছুক্ষণ ঘুরতে ঘুরতে কোথায় যেন মিলিয়ে গেল…. আমি পিছন থেকে মুখ ফিরিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে দেখলাম … একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক ভাঙ্গা হুইল চেয়ার আপনা আপনিই আমার দিকে ছুটে আসছে….. এরকম নানান অদ্ভুত ঘটনা দেখে নিজেকে সামলাতে না পেরে ভয়ে ওখান থেকে ছুট দিলাম …. বেশ কিছুক্ষণ পর একটি আলোকিত জায়গায় এসে পৌছালাম …. এবং হাঁপাতে হাঁপাতে মাথাটি তুলে উপরের দিকে তাকিয়ে দেখলাম বড় বড় করে লেখা ‘সি ব্লক’….. একটু সময় অপেক্ষা না করে … সিড়ি দিয়ে সেকেন্ড ফ্লোরে উঠে গেলাম…. গিয়ে দেখলাম একটি রুমে আমার অনেক বন্ধু বান্ধবী বসে…. দরজাটি জোরে ধাক্কা মেরে খুলতেই…. সবাই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল… আমার সারা শরীর তথা মুখে ঘামের ছাপ দেখে সবাই জিজ্ঞাসা করল কি হয়েছে?? এবং আমি ঠিক আছি কিনা …. আমার মুখ থেকে একটি বাক্য বের হলো না…পাশ থেকে এক বন্ধু একটি জলের বোতল দিয়ে পান করার কথা বলল… আমি জল পান করে বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকলাম…. অনেকটা সময় লেগে গেল নিজেকে সামলে পুনরায় নিজের মধ্যে ফিরে আসতে …. এবং বেশ কিছুক্ষণ যাওয়ার পর সমস্ত ঘটনা আমি বন্ধুদেরকে জানালাম…. সবাই বেশ ভয় পেয়ে উঠেছিল….. সেদিন নাইট ডিউটি আমার এভাবেই ভয়ের সাথে কাটে…… বেশ কিছুদিন কেটে যায়…. কিন্তু সেদিনের ঘটনা আমার আর পিছু ছাড়ে না…. রাতে শোয়ার পর চোখ বন্ধ করলেই শুধু শুনতে পাই কে যেন চিৎকার করে বলে আমাকে মুক্তি দে….. আমকে মুক্তি দে ……. আর ওই ভাঙ্গা হুইল চেয়ার যেন সজোরে আমার দিকে ছুটে আসছে……

You may also like

Photo Mix2

 কিভাবে Waphosts.com এ সাইট খুলবেন?

  ➡️ Blogs


beautiful island 240x320

 নিয়ে নিন Https://Wapone.Cf এই সাইটের থিম।

  ➡️ Blogs


beautiful island 240x320  VLX894wMrsiu

 কবিতা চোরপুরুষ

  ➡️ Blogs


beautiful island 240x320  IV5rZDNuP2G0

 সততার কাজ করলে উপকার কি?

  ➡️ Blogs


beautiful island 240x320  946YKTDszM2U

 কিভাবে Wapkiz Site এ। সমস্যায় আমাকে ফেসবুকে ম্যাসেজ দিন লিখবেন। এবং ওটায় ক্লিক করলে আপনার ফেসবুক আইডি আসবে?

  ➡️ Blogs


3 Comments To “আপনারাও পড়ে ভয় পাবেন। আমার সাথে ঘটে যাওঢ়া ঘটনা।”

  1. Tawsif

    Very strange

  2. Alamin

    ওমাগো

  3. Md Rokunuzzaman

    Khub valo vaia

Make A Comment

Download Your Favorite Games And Apps Free
© 2020 - 2022 Mload.Xyz